মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » ফিচার » এভারেস্টের চূড়ায় বিয়ে!

এভারেস্টের চূড়ায় বিয়ে!

এভারেস্টের চূড়ায় বিয়ে!

সিনিউজ: বলা হয়, শখের তোলা নাকি আশি টাকা। দুনিয়ায় মানুষের রয়েছে নানারকমের শখ। একটি পূরণ করলে আরেকটি শখ যেন চেপে বসে! শখের যেন শেষ নেই। যতসব উদ্ভট শখের কথা শোনা যায় মাঝেমধ্যেই। উদ্ভট হোক আর সাধারণই শখ হোক, সবাই পূরণ করতে চেষ্টা করে তার সাধ্যমতো। এমনই এক অদ্ভুত শখ পূরণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক যুগল। তাদের শখ ছিল দু’জন এভারেস্টে গিয়ে বিয়ে করবেন। যে কথা সেই কাজ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উঁচু এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে বিয়ে করেছেন তারা। তাদের বিয়ের ছবি তুলেও নিজের শখ পূরণ করেছেন বিখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী শার্লটন চার্চিল। এই আলোকচিত্রীরও নাকি শখ ছিল এমন অদ্ভুত বিয়ের ছবি তোলার! এই প্রেমিকের নাম জেমস সিসম (৩৫) ও প্রেমিকা অ্যাশলে স্কিমেডর (৩২)। তাদের এই শখ পূরণ করতে সময় লেগেছে ১ বছরেরও বেশি। তাদের এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে ২৩ দিনের একটি কঠিন প্রশিক্ষণে অংশ নেন তারা। এরপর চলতি বছরের ১৬ মার্চ তারা এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে ওঠেন। তাদের সঙ্গে থেকে পুরো ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেছেন আলোকচিত্রী শার্লটন চার্চিল। এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যেও জেমস ও অ্যাশলে গরম পোশাক ছাড়াই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিয়ে করেন।

এমনভাবে বিয়ে করা প্রসঙ্গে বিয়ের পাত্রী অ্যাশলে স্কিমেডর বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যখন বিয়ের কথাবার্তা চলছিল তখন পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দু’জন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, এমনকিছু করবো যা অন্য কেউ করেনি। বরং আমাদের বিয়ে দেখে বাকিরা চমকে যাবে। আর আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এক ছুটিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসি হাজার মাইল দূরের নেপালে। আর তিন সপ্তাহের ট্রেকিং শেষে বেস ক্যাম্পে উঠি।’

ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাদের এ অভিযানের শুরুর সময়টা মোটেও আনন্দময় ছিল না। শার্লটন এভারেস্টে উঠতে গিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিলেন। বেস ক্যাম্প ওঠার আগেই বিয়ের পাত্রী অ্যাশলের অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। এত কম দিনের ট্রেকিং নিয়ে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে ওঠা অনেক দুঃসাধ্য ছিল। কিন্তু প্রেমের জোরেই ওই দম্পতি এটাকে অনেক সহজ করে ফেলেছেন।

দুঃসাহসী বিয়ের ছবি তোলা প্রসঙ্গে আলোকচিত্রী শার্লটন চার্চিল বলেন, ‘২০১৫ সালেও এমন এক দম্পতির দেখা পেয়েছিলাম, যারা এভারেস্টে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেসময় ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে তা আর হয়নি। এরপর আমি কখনো ভাবতেই পারিনি যে এভারেস্টে উঠে বিয়ে করতে চান এমন কোনো দম্পতির আর দেখা পাবো। এমন দম্পত্তি পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। কারণ এটা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ।’

মার্কিন এই আলোকচিত্রী জানান, এই দম্পতি বছরখানেক আগে তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানিয়েছিলেন, তারা দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে বিয়ে করতে চান। কিন্তু এজন্য তারা স্থান খুঁজে পাচ্ছেন না। এভারেস্টে অন্তত একবার কারো বিয়ের ছবি তোলার তক্কে তক্কে থাকা শার্লটন তাদের এই কথাটি জানান। ব্যস, এতেই রাজি হয়ে যান ওই দম্পতি। আর তাদের এ অভিযানের সঙ্গী হয়ে যান শার্লটন। জেমস ও অ্যাশলে ১৬ মার্চ মাইনাস পাঁচ ডিগ্রি থেকে পাঁচ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বিয়ের আংটি বদল করেছেন। তাদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক। সেখানে নাগা নামের একজন গাইড শেরপা ছিলেন। যেহেতু বিয়ের গাউন ও স্যুট পরা ছিলেন তাই তাদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে স্যুপ, কফিসহ নানারকম গরম তরল পানীয় খাইয়ে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হয়েছিল। আংটি বদল শেষে তারা ১৮ হাজার ৫১৪ ফুট উঁচুতে ওঠেন। যেখানে তাদের প্রবেশের সপ্তাহখানেক আগে অস্ট্রেলিয়ার একজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেখানে সবাই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে তারা সিদ্ধান্ত নেন সকাল হলেই হেলিকপ্টারে করে নিচে নেমে যাবেন। পরদিন সকালেই হেলিকাপ্টারের সাহায্যে তারা ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসেন।

শার্লটন বলেন, ‘বেস ক্যাম্পে আমরা দু-রাত অবস্থান করেছিলাম। এ সময় আংটি পরানো ও বিয়ের অসংখ্য ছবি তোলা হয়েছে। এরপর দ্রুত আমাদের হেলিকপ্টারে করে নেমে যেতে হয়েছে। এ ঘটনা আসলে জেমস সিসম ও অ্যাশলে স্কিমেডর পরিবারকে না জানিয়েই করেছেন! পরে বাড়ি ফিরে জেমস ও অ্যাশলে দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কাগজপত্রে সই করেছেন। কিন্তু আর যাই হোক দু’জনের শখ তো পূরণ হলোই, পাশাপাশি আমারটাও!’