মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » লাইফস্টাইল » দুই আঙুলে পায়ের উপজাতি

দুই আঙুলে পায়ের উপজাতি

Vedoma

সিনিউজ :  উপজাতি এমন জনগোষ্ঠীগুলোকে বোঝায় যারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটি আলাদা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে। যাদের সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা মূল জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা এবং যাদের নিজস্ব সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রথা ও আইন আছে।
উপজাতিরা শারীরিক বৈশিষ্ট্যেও মূল জনগোষ্ঠী থেকে খানিকটা ভিন্ন। কোনো কোনো উপজাতির শারীরিক বৈশিষ্ট্য এতটাই বৈচিত্র্যপূর্ণ যে তা দেখে বিস্ময় জাগায়। জিম্বাবুয়ের ভেডোমা এমন একটি উপজাতি, যারা অদ্ভুত এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই উপজাতির প্রতিটি শিশু দুই পায়ে ১০টির পরিবর্তে চারটি আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বৈজ্ঞানিকভাবে এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ইক্টোড্যাক্টলি এবং এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যর জন্য ভেডোমাদের বলা হয় দোপায়ী বা উট পাখি উপজাতি।
ভেডোমা উপজাতির বসবাস জিম্বাবুয়ের কেনিয়াম্বা অঞ্চলে। মুয়াজামুটান্ডা নদীর অববাহিকায় বসবাবাসরত এই উপজাতিকে বলা হয় হান্টার গেদারস। হান্টার গেদারস সেই সমস্ত উপজাতিকে বলা হয়, যারা কোনো চাষাবাদ করে না এবং খাদ্যের জন্য বন ও বন্য প্রাণীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
ভেডোমা উপজাতি ডেমা ভাষায় কথা বলে। ভেডোমা রূপকথা অনুসারে তাদের বিশ্বাস, তাদের পূর্বপুরুষরা বাউবো নামে একটি গাছ থেকে জন্মগ্রহণ করেছে। সুতরাং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে গাছের প্রভাব খুব বেশি।
জিম্বাবুয়েতে ভেডোমাদের নিয়ে বহু রূপ কথা প্রচলিত রয়েছে। জিম্বাবুয়ের কিছুসংখ্যক লোক বিশ্বাস করে, এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা জাদুবিদ্যা জানে এবং এই জাদুবিদ্যার সাহায্যে তারা বনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত ভেডোমারা ফাঁদ পেতে বন্য প্রাণী শিকার, মাছ ধরা, মধু আহরণ এবং বন্য ফল-মূল সংগ্রহ করে তাদের খাদ্যের সংস্থান করে।
জিম্বাবুয়েতে ইউরোপীয় উপনিবেশের পূর্বে ভেডোমারা মুতাপা সা¤্রাজ্যের (১৪৩০-১৭৬০) সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদের ওই সময় থেকে কৃষিকাজবিহীন এক প্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য করা হয়। এরপর জিম্বাবুয়েতে ইউরোপীয় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হলেও ভেডোমাদের জীবনযাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তারা এখনও সেই আগের মতো প্রাচীন অরণ্যচারী, গুহাবাসী জীবন যাপন করে যাচ্ছে।
এদের পায়ে মাঝের তিন আঙুল নেই অর্থাৎ দ্বি-আঙুলে মানুষ। কালাহারি মরুভূমিতে কালাঙ্গা নামে জাতির মানুষের মাঝেও এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
পায়ের এই V শেপড বৈশিষ্ট্যের জন্য এদেরকে অস্ট্রিচ মানবও বলা হয়ে থাকে। এই পায়ের জন্য এরা নাকি জোড়ে অস্ট্রিচের মতো দৌড়াতে পারে।
ডবরল জেনেটিক্যাল কারণে প্রতি চার সন্তানের একজনের পায়ের আঙুল দুটি থাকে, এর নাম ectrodactyly  (জেনেটিক্যাল অসামঞ্জস্য)। ৭ নং ক্রোমোজমের একক মিউটেশনের জন্যই এই অবস্থার সৃষ্টি। আসলে এই জাতির মধ্যে অন্য জাতিকে বিয়ে করার রেওয়াজ নাই। তাই বংশ পরিক্রমায় তারা এই সামঞ্জস্য ধারণ করে চলছে।
ভেডোমা বা অস্ট্রিচ মানুষ একসময় জিম্বাবুয়ের মিথ হিসেবে চালু ছিল যার রহস্য ১৯৫০ সালে চার্লস শাটন নামের একজন ভ্রমণকারী উন্মাচন করেন।
জিম্বাবুয়ের সরকার তাদের এই সমস্যা প্রতিকার করতে চাইলেও এরা গ্রহণ করেনি।