মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » লাইফস্টাইল » প্রাকৃতিক উপায়ে ঈদে রূপচর্চা

প্রাকৃতিক উপায়ে ঈদে রূপচর্চা

সিনিউজ : ঈদের দিনটি বিশেষ কিছু সবার কাছেই। এই দিনটিতে সবাই চায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে এবং ফ্রেশ লুকে থাকতে। আর তাই ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় নানা ধরনের ঈদ প্রস্তুতি। অনেকেই আবার ঈদের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ত্বকের, চুলের ও পুরো দেহের যত্ন নেয়া শুরু করে দেন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রাকৃতিক উপায়ে ঈদের আগের দিন কী কী প্রস্তুতি নিতে পারেন।
সবার প্রথমে মুখে পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
সাধারণত ফ্রুট ফেসিয়াল সপ্তাহে ১ দিন করা যায়। আপনি চাইলে মাস্ক আগে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। ফ্রুট মাস্কগুলো ফ্রিজে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। জেনে নিন ফ্রুট ফেসিয়ালের কয়েকটি পদ্ধতি।

২. হলুদ : হলুদের গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। রূপচর্চায় হলুদের ভূমিকা অনেক। অতীতে নানি-দাদিরাও হলুদ ব্যবহার করতেন। নানান রোগের জন্যে কাঁচা হলুদের রসও খেতেন। ঘরোয়া চিকিৎসাতেও হলুদের অবদান অনেক। অনেক ফেসপ্যাক কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরি করা হয়। অনেকের গায়ের রং ফ্যাকাসে সাদা। তারা যদি একটু কাঁচা হলুদ বেটে তার সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে গায়ে, হাতে এবং পায়ে মেখে প্রতিদিন গোসল করেন, তাহলে দেখবেন ফ্যাকাসে ভাব নেই। কাঁচা হলুদের সাথে দুধের সরও মিশিয়ে নিতে পারেন।
হলুদ লোমনাশক, নিয়মিত মাখলে শরীরের লোম বাড়ে না। এতে ওয়াক্সিংয়ের কাজ হয় ভালো।

৫. মধু : মধুর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মধু ত্বকের জন্যে খুবই উপকারী। বহু ফেসপ্যাক মধু দিয়ে তৈরি হয়। কয়েক ফোঁটা মধু ও কাঁচা দুধ একত্রে মুখে মাখলে মুখের রং উজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ হয়।
মধু ও বেসন একত্রে মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে মেখে ১৫/২০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুলে মুখের ত্বক খুব সুন্দর ও মসৃণ হয়।
কয়েক ফোঁটা মধু + কয়েক ফোঁটা লেবুর রস + ১ চা চামচ গাজরের রস + ১ চা চামচ ছোলার ডালের বেসন একত্রে পেস্টের মতো করে মুখে মেখে ২০/৩০ মিনিট রেখে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন মুখ মসৃণ ও কোমল হয়ে উঠবে। এ প্যাকটি শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য উপকারী।

৯. ময়দা : প্রত্যেক বাড়িতেই রান্নাঘরে ময়দা পাওয়া যায়। আর এ ময়দা রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করে আপনি হতে পারেন রূপবতী নারী। সাবানের পরিবর্তে ময়দা পানিতে গুলিয়ে হাতে, পায়ে ও মুখে মেখে গোসল করতে পারেন। আবার ময়দা + কাঁচা হলুদ বাটা + দুধের সর মিশিয়ে হাতে, পায়ে, মুখে আস্তে আস্তে মেখে প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানিতে, পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিলে দেখবেন গায়ের রং কিছু দিনের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।

১১. শসা : শসার গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। শসা যেমন রান্না-বান্নায়, খাওয়া-দাওয়ায় ব্যবহৃত হয় তেমনি ব্যবহৃত হয় রূপচর্চায়।
মুখে কোনো কালো দাগ পড়লে কচি শসার রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। এভাবে কিছুদিন নিয়মিত লাগালে দাগ উঠে যায়।
শসার রসের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মুখে মেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিলে মুখের রং উজ্জ্বল ও কোমল হয়। তবে নিয়মিত কিছুদিন করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায় চোখের নিচে অনেকেরই কালো দাগ পড়ে। শসার রস নিয়মিত মাখলে এ দাগ দূর হবে।
মুখকে রোদ থেকে বাঁচাতে, মুখের দাগ তুলতে ও ময়লা থেকে যদি রেহাই পেতে চান তবে শসার সাহায্যে একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে ২৫/৩০ মিনিট রেখে প্রথমে গরম পানি, পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে বাইরে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এতে ত্বক সারাদিনের জন্যে যেমন চকচকে, মসৃণ ও কোমল থাকবে তেমনি বাইরের নানান জীবাণু থেকে ত্বক রেহাই পাবে।

টমেটোর মাস্ক : টমেটোর মাস্কটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। যাদের ত্বকে রোদে পোড়া দাগ আছে তারা এটি ব্যাবহার করতে পারেন। একটা পাকা টোমেটো কেটে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। তারপর জেলোটা দিয়ে প্রথমে মুখ ঘষে নিতে হবে। এখন ব্লেন্ড করা অংশটা মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। ফলে ত্বকের মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে এবং ত্বক অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

স্ট্রবেরির মাস্ক : স্ট্রবেরি ফলটি সারা বছর কম বেশি পাওয়া যায়। এই ফল খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনি রূপচর্চায়ও এর বিশেষ ভূমিকা আছে। দুটি স্ট্রবেরি ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। এখন পেস্টটা সম্পূর্ণ মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এখন কুসুম গরম পানি দিয়ে আলতো করে ঘষে মুখ ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল এবং দাগমুক্ত হবে।