সোমবার , ২০ নভেম্বর ২০১৭
Home » অর্থনীতি » কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট থেকে ৩শ’ কোটি টাকার ব্যবসা

কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট থেকে ৩শ’ কোটি টাকার ব্যবসা

1474779583

সিনিউজ :  কোরবানির পশুর ফেলনা বর্জ্য থেকেও যে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় তা এতদিন ছিল অজানা। বর্তমানে এই ফেলে দেয়া বর্জ্য থেকে রমরমা ব্যবসা করছেন কিছু আগ্রহী ব্যবসায়ী। ডাস্টবিনে ফেলা কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য থেকেই তারা ৩শ’ কোটি টাকা আয় করবেন বলে সম্ভাবনা দেখছেন। জানিয়েছেন পশুর উচ্ছিষ্ট সংগ্রকারীদের পাইকাররা।
এসব উচ্ছিষ্টের মধ্যে রয়েছে কোরবানির পর ফেলে দেয়া পশুর শিং, হাড়, দাঁত, মাথার খুলি, নাড়ি-ভুঁড়ি, বলদ গরুর অ-কোষ এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। আলাদাভাবে এগুলোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়নি আগে। কেবল হাড়গোড় সংগ্রহ করে সেগুলোকে রূপান্তর করে আয়ের তথ্য পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য ভাগারে পঁচার  প্রত্যঙ্গগুলো কুড়িয়ে আয়ের ক্ষেত্র তৈরী করা একেবারেই নতুন।
যে উচ্ছিষ্ট বর্জ্যরে ব্যবসায় এত বিশাল অংকের টাকা আয় হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে বিনা পুঁজিতে এ এক নতুন ব্যবসা। মাত্র কয়েকদিনেই সংশ্লিষ্টদের আয় করতে পারে আশাতীত লাভের টাকা। ব্যবসা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বিদেশেও এসব উচ্ছিষ্ট বর্জ্যরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কোরিয়া এবং চীনেই বেশি চাহিদা রয়েছে।
পুরাতন ঢাকার ব্যবসায়ি মোহাম্মদ হোসেন এবং জিয়াউদ্দিনএর সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, তারা বেশ কয়েক বছর ধরেই এসব উচ্ছিষ্ট বর্জ্যরে ব্যবসা করছেন। উল্লেখিত ব্যবসায়িদ্বয় আরো জানালেন,আগে কেবলই এসব উচ্ছিষ্ট থেকে দেশে বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি হতো। শিং,দাঁত,হাড় থেকে চিরুণী। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আজকাল বিদেশীদের মাঝে এসব দ্রব্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। সে কারণে বিদেশে, বিশেষ করে কোরিয়া এবং চীনে রপ্তানি হচ্ছে। অন্যান্য বর্জ্য শিং, হাড়,দাঁত এবং মাথার খুলি থেকে চিরুণী এবং খেলনা সামগ্রী তৈরি হয়। বর্জ্যরে যে এত মূল্য তা কিন্তু যারা এসব বর্জ্য অকাতরে ডাস্টবিনে ফেলছেন, তারা মোটেও জানে না।
তারা বরং উল্টো যারা এসব বর্জ্য নিতে আসছে ট্রলি নিয়ে তাদের বেশ সমাদরই করছে। বর্জ্য ফেলা লোকজন ভুলেও জানতে পারছে না যে, তাদের ফেলনা বর্জ্য জিনিস থেকে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে। মাঝখান থেকে একটি বিশেষ গ্রুপ সিন্ডিকেট করে বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করছে। কিছুদিন আগেও মানে নিকট অতীতেও দেখা যেত কোরবানির ঈদের দিন থেকে নিয়ে বেশ কিছু দিন ঢাকা শহরের অলিগলিতে এসব কোরবানির বর্জ্য গরুর শিং, হাড়, দাঁত, মাথার খুলি, বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অযতেœ-অবহেলায় পড়ে থেকে কেবলই দুর্গন্ধ ছড়াত। সিটি কর্পোরেশনের ক্লিনার এবং কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিগোচর হলেই কেবল এসব বর্জ্যরে সুরাহা হতো। যেগুলো গাড়িতে করে নেয়া হতো আউটফল মানে বিশাল ভাগাড়ে। সেখানে আবার কিছু টোকাইকে দেখা যেত ময়লার স্তূপ থেকে শিং, হাড়, দাঁত, মাথার খুলি সংগ্রহ করতে। আবার গরুর পায়ের এবং বুকের বড় বড় হাড়ের অংশগুলো অনেককেই সংগ্রহ করতে দেখা যেত। কোরবানির গরুর উচ্ছিষ্ট শিং, ক্ষুর, হাড়, দাঁত স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে লাগানো হতো। রাজধানীর পুরাতন অংশের কিছু লোককে কোরবানির ঈদের পর এসব বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা যেত। কিন্তু বর্জ্য থেকেও যে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করা সম্ভব তা ছিল স্বপ্নের অতীত।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের ফলে অন্যান্য সেক্টরের মতো বিভিন্ন সাধারণ পণ্যের ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছে। আর সে কারণে ফেলনা বর্জ্য বস্তু থেকেও ব্যবসা জমে উঠেছে। তবে কোরবানি বর্জ্যরে এই বিশাল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তির বিষয়টিও দেখতে হবে। প্রয়োজনে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। সেই সঙ্গে কেবলই রাজধানী ঢাকা নয়, গোটা দেশ থেকে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে কোরবানির পশুর ফেলে দেয়া বর্জ্য শিং, ক্ষুর, মাথার খুলি, দাঁত ইত্যাদি সংগ্রহ করে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রক্রিয়াজাত করে রফতানির উদ্যোগ নিলে দেশ প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে। পাশাপাশি গোটা দেশের কোরবানির এই বিপুল পরিমাণ উচ্ছিষ্ট বর্জ্য অপসারণ কাজে নিয়োজিতদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরবে।