মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » খেলাধুলা » শেষ সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি বাংলাদেশের

শেষ সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি বাংলাদেশের

bangladeshhhh-59afb8055255b

সিনিউজ :  তিন উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২৯৮ রান। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৭ রান পিছিয়ে। ক্রিজে সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে দারুণ খেলতে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫০ থেকে ২০০ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু এরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে অজিদের লিড লাগামের বাইরে যেতে দেয়নি টাইগাররা। ১ উইকেট হাতে রেখে সফরকারীদের লিড ৭২ রানের। বুধবার টেস্টের তৃতীয় দিন বৃষ্টির কারণে সোয়া একটায় খেলা শুরু হয়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩০৫ রানের জবাবে ২ উইকেটে ২২৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া দিন শেষে ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান সংগ্রহ করেছে। দিন শেষে স্টিভ ও’কিফ ৮ এবং নাথান লায়ন ০ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ার্নার ১২৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে এশিয়ার মাটিতে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এছাড়া সফরকারীদের হয়ে পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৮২, স্টিভেন স্মিথ ৫৮ এবং ম্যাক্সওয়েল করেন ৩৮ রান। অ্যাস্টন অ্যাগার ২২ এবং হিলটন কার্টব্রাইট করেন ১৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাকিব ও তাইজুল ইসলাম।
দুর্দান্ত শুরুর পর ৭৯ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে বড় লিড নেয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় দলটির। তবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে হলে দারুণ ব্যাটিংয়ের পসরা সাজানো ছাড়া উপায় নেই। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্ব বুধবার শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান ৮৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়ার্নার। সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছিলেন হ্যান্ডসকম্বও। এসময় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রো এনে দেন সাকিব। ওয়ার্নার তখন ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে নাসির হোসেনের করা ৭৪তম ওভারের তৃতীয় বলে এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের শট চলে যায় স্কয়ার লেগে। সতীর্থের সেঞ্চুরির জন্য যেন তাড়া পেয়ে বসে হ্যান্ডসকম্বকে। ‘বিপজ্জনক’ রানের জন্য দৌড় দেন। ওয়ার্নার তাকে ‘নো’ কল করেন। ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করেন হ্যান্ডসকম্ব। তবে সাকিবের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে আঘাত হানলে সাজঘরে ফিরতে হয় এই অজি ব্যাটসম্যানকে। আউট হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়াকে ঠিকই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন হ্যান্ডসকম্ব। তৃতীয় উইকেটে ১৫২ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। হ্যান্ডসকম্ব ফেরার পর ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওয়ার্নার। এ সময় অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। ২২তম জন্মদিন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা টেস্ট উইকেট দিয়ে উদযাপন করেন ওয়ার্নার। ফিজের বলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ওয়ার্নার। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে ক্যাচ লুফে নেন ইমরুল। চা- বিরতির আগে ফের উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। এবার মিরাজের বলে স্লিপে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে হিলটন কার্টব্রাইট সাজঘরে ফেরেন। কার্টব্রাইটের বিদায়ের পর ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে জুটি গড়ে ম্যাক্সওয়েল। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছিল এই জুটি। মোস্তাফিজ এসে স্বস্তি ফেরান টাইগার শিবিরে। কাটার মাস্টারের করা ১০৬তম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ওয়েড (৮)। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেও বাঁচতে পারেননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাক্সওয়েলকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন মিরাজ। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ম্যাক্সওয়েল। স্টাম্পের প্রায় কাছ থেকে দুর্দান্ত দৃঢ়তায় ক্যাচ লুফে নেন মুশফিক। বাংলাদেশের আউটের আবেদনে সাড়া না দিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন নাইজেল লং। সেখান থেকে আউটের সিদ্ধান্ত আসলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দর্শকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর ফের বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান মিরাজ। তার করা ১০৯ ওভারের শেষ বল প্যাড দিয়ে ঠেকান প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশ জোরালো আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন মুশফিক। আর তাতে সফলতাও মেলে। এরপর সাকিবের বলে প্যাট কামিন্স বোল্ড হলে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পর আলো স্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা দিনের খেলার ইতি টানলে অজিদের অলআউট করা সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের।
এর আগে মুশফিক, সাব্বির রহমান ও নাসিরের দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে ৩০০ প্লাস রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মুশফিক সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। সাব্বির আউট হয়েছেন ৬৬ রান করে; টেস্টে এটাই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। সৌম্য সরকার ৩৩, মুমিনুল হক ৩১ এবং সাকিব করেন ২৪ রান। তামিম ইকবাল ৯ এবং ইমরুল কায়েস ৪ রান করে আউট হন। ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে কোন দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলা নাথান লায়ন যথারীতি অস্ট্রেলিয়ান বোলিং অ্যাটাকের নায়ক। ৯৪ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নেন এই অজি স্পিনার। এই নিয়ে টানা তিন টেস্টে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন লায়ন। অ্যাস্টন অ্যাগার নেন দুটি উইকেট। মিরপুর টেস্টে নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চ শেষে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হলে কিংবা বাংলাদেশ সিরিজ পকেটে পুরবে মুশফিকের দল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজ হার এড়ানোর পাশাপাশি হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশন।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাসির হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ : ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হিলটন কার্টব্রাইট, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাস্টন অ্যাগার, স্টিভ ও’কিফ, প্যাট কামিন্স ও নাথায় লায়
বোলিং  মিরাজ (১৯.০-৩-৮০-২) ইকো ৪.২১, নাসির (৩.০-২-২-০-০.৬৬) সাকিব (২৮.০-৭-৮৫-৫-৩.০৩) তাজুল (১৯-৫-২-৬০-৩-৩.০২) মোস্তাফিজ (১০-০-৪-০-৮.০০)।