মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » খেলাধুলা » অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের হার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের হার

Sports

সিনিউজ :  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট মিরপুরে জিতেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল তাদের সামনে। কিন্তু চট্টগ্রামে তাদের অসহায় আত্মসমর্পণ। অতঃপর হেরে দুই টেস্টের সিরিজ শুরু করা অসিরা সান্ত¡নার জয় পেল। বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ৭ উইকেটের জয়ে সিরিজ ১-১ এ সমতায় রেখে শেষ করেছে স্টিভেন স্মিথরা। ১৫.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও নাথান লিওনের স্পিনে হাঁপিয়ে ওঠেছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার এ স্পিনার টানা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট পান। তাতে ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামা বাংলাদেশ অলআউট ১৫৭ রানে। চট্টগ্রাম টেস্টে তারা অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্য দেয় মাত্র ৮৬ রানের।
সেই লক্ষ্য ছুঁতে ৩ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ডেভিড ওয়ার্নার ৮ রানে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন। দলীয় ১৩ রানে অসি ওপেনারকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান বাঁ-হাতি পেসার। তিনটি চার মেরে মারকুটে স্মিথ ফিরে যান তাইজুল ইসলামের বলে মোস্তাফিজকে ক্যাচ দিয়ে। ১৬ রান করেন সফরকারী অধিনায়ক। সাকিব আল হাসান আরেকবার বাংলাদেশকে উদযাপনের সুযোগ করে দেন। ম্যাট রেনশকে ২২ রানে তিনি মুশফিকের ক্যাচ বানান। আর কোন উইকেট হারায়নি অসিরা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৫ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব ১৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতান।
এর আগে চতুর্থ দিন সকাল সকাল অস্ট্রেলিয়াকে আর কোন রান করতে না দিয়ে ৩৭৭ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে ৩৭৭ রানে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অসিরা। লিওন ও স্টিভ ও’কিফের শেষ জুটি আর কোন রান করতে পারেননি। রানের খাতা না খুলেই উইকেট হারায় তারা। দিনের প্রথম ওভার সাকিব রান করতে দেননি ও’কিফকে। পরের ওভারে মোস্তাফিজ বল হাতে নেন। লিওন তার চারটি বল সামলে নিলেও পঞ্চম বলে ইমরুলকে ক্যাচ দেন। অলআউট অস্ট্রেলিয়া। মোস্তাফিজ নেন ৪ উইকেট।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকে ব্যাটিং ধসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। মাঝে মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান ও মুমিনুল হকের প্রতিরোধ ছিল। তাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। লিওন ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপর্যয়ে মূল অবদান রাখেন।
বেশিদূর অস্ট্রেলিয়াকে লিড নিতে না দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে লিওনকে নিয়ে ভয় ছিল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের, সেটাই সত্যি হলো। দুই ওপেনারের ব্যাট তো হাসেইনি। সাকিব আল হাসান ও নাসির হোসেনও ডুবেছেন হতাশায়। অসি স্পিনারের বোলিংয়ে প্রথম সেশনে ৪৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, যার তিনটিই ছিল লিওনের। এরপর সাব্বির ও মুশফিকের জুটিতে লিড নেয় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু সৌম্য সরকারের বিদায়ে। পুরো সিরিজে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এ ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ইনিংসে মাত্র ৯ রানে প্যাট কামিন্সের বলে রেনশর ক্যাচ হন সৌম্য। ১১ রানে স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে অসিরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তার সর্বোচ্চ রান ৩৩, চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে। ঢাকা টেস্টে ৮ ও ১৫ রান করেছিলেন সৌম্য।
এরপর তামিম ৩৮ বল খেলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি। লিওনের স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। দুটি চার রয়েছে এ ওপেনারের ইনিংসে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯ রান করেছিলেন তামিম। কিছুক্ষণ পর ইমরুলকে ১৫ রানে শিকার বানান লিওন। এক্সট্রা ওভারে সরাসরি ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ দেন ইমরুল। আগের তিন ইনিংসে তার স্কোর ছিল ০, ২ ও ৪। সাকিবও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। মাত্র ২ রানে ওয়ার্নারকে ক্যাচ দেয় লিওনের শিকার তিনি। পরের ওভারে ও’কিফের বলে মাত্র ৫ রানে ফার্স্ট স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ দেন নাসির।
সাব্বির-মুশফিক প্রতিরোধ গড়লেও এ জুটি ভাঙে লিওনের বলে। তাদের ব্যাটে ১১ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ফিরে এসে আবার ব্যাটিং বিপর্যয়। দলকে ২৫ রানের লিড এনে দিয়ে লিওনের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন সাব্বির। ২৪ রান করেন তিনি। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিটি ছিল ৫৪ রানের।
মুমিনুলকে বেশি সময় দিতে পারেননি মুশফিক। তার সঙ্গে ৩২ রান যোগ করেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। কামিন্সের বলে ওয়েডকে তিনি ক্যাচ দেন ইনিংস সেরা ৩১ রানে। এরপর আরেকবার লিওনের আঘাত, মুমিনুলকে ২৯ রানে কামিন্সের ক্যাচ বানান তিনি। ১৪৯ রানে ঘটে ৮ উইকেটের পতন।
প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেয়ার পর মুমিনুলকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট পান লিওন। বছরের সবচেয়ে বেশি ৪৫তম উইকেটটি নিয়ে তিনি টপকে যান রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। ওখানেই শেষ নয়। ২৯ বছর বয়সী এ স্পিনার ইনিংসে তার ষষ্ঠ উইকেট পান তাইজুলকে ৪ রানে বোল্ড করে। ৭১.২ ওভারে মোস্তাফিজকে ফেরান ও’কিফ। নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ইতি টানেন এ স্পিনার। মাত্র ৮৫ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
৩৩ ওভারে ১১ মেডেনসহ ৬০ রান দিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন লিওন। ম্যাচে তার উইকেট ১৩টি। দুই ম্যাচে তার অর্জন ২২ উইকেট।
স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩০৫, ১১৩.২ ওভার (মুশফিকুর ৬৮, সাব্বির ৬৬, লিঁও ৭/৯৪)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস (আগের দিন ৩৭৭/৯, ১১৮ ওভার) :
ম্যাট রেনশ ক মুশফিকুর ব মুস্তাফিজুর     ৪
ডেভিড ওয়ার্নার ক ইমরুল ব মুস্তাফিজুর    ১২৩
স্টিভেন স্মিথ বোল্ড ব তাইজুল     ৫৮
পিটার হ্যান্ডসকম্ব রান আউট (সাকিব)     ৮২
গ্লেন ম্যাকওয়েল ক মুশফিকুর ব মিরাজ     ৩৮
হিল্টন কার্টরাইট ক সৌম্য ব মিরাজ    ১৮
ম্যাথু ওয়েড এলবিডব্লু ব মুস্তাফিজুর     ৮
অ্যাস্টন আগার বোল্ড ব সাকিব    ২২
প্যাট কামিন্স এলবিডব্লু ব মিরাজ    ৪
স্টিভ ও’কেফি অপরাজিত    ৮
নাথান লিঁও ক ইমরুল ব মুস্তাফিজুর    ০
অতিরিক্ত (বা-৮, লে বা-৩, ও-১)     ১২
মোট (অলআউট, ১১৯.৫ ওভার)     ৩৭৭
উইকেট পতন : ১/৫ (রেনশ), ২/৯৮ (স্মিথ), ৩/২৫০ (হ্যান্ডসকম্ব), ৪/২৯৮ (ওয়ার্নার), ৫/৩২১ (কার্টরাইট), ৬/৩৪২ (ওয়েড), ৭/৩৪৬ (ম্যাক্সওয়েল), ৮/৩৬৪ (কামিন্স), ৯/৩৭৬ (আগার), ১০/৩৭৭ (লিঁও)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মিরাজ : ৩৮-৬-৯২-৩,
মুস্তাফিজুর : ২০.৫-২-৮৪-৪ (ও-১),
সাকিব : ৩১-৩-৮২-১,
তাইজুল : ২১-১-৭৮-১,
নাসির : ৬-২-১৪-০,
মোমিনুল : ২-০-৬-০,
সাব্বির : ১-০-৯-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস :
তামিম ইকবাল স্টাম্পিং ওয়েড ব লিঁও    ১২
সৌম্য সরকার ক রেনশ ব কামিন্স    ৯
ইমরুল কায়েস ক ম্যাক্সওয়েল ব লিঁও     ১৫
নাসির হোসেন ক স্মিথ ব ও’কেফি    ৫
সাকিব আল হাসান ক ওয়ার্নার ব লিঁও    ২
মুশফিকুর রহিম ক ওয়েড ব কামিন্স    ৩১
সাব্বির রহমান স্টাম্পিং ওয়েড ব লিঁও    ২৪
মোমিনুল হক ক কামিন্স ব লিঁও    ২৯
মেহেদি হাসান মিরাজ অপরাজিত     ১৪
তাইজুল ইসলাম বোল্ড ব লিঁও     ৪
মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড ব ও’কেফি    ০
অতিরিক্ত (বা-১২)     ১২
মোট (অলআউট, ৭১.২ ওভার)     ১৫৭
উইকেট পতন : ১/১১ (সৌম্য), ২/৩২ (তামিম), ৩/৩৭ (ইমরুল), ৪/৩৯ (সাকিব), ৫/৪৩ (নাসির), ৬/৯৭ (সাব্বির), ৭/১২৯ (মুশফিকুর), ৮/১৪৯ (মোমিনুল), ৯/১৫৬ (তাইজুল), ১০/১৫৭ (মুস্তাফিজুর)।
অস্ট্রেলিয়া বোলিং :
প্যাট কামিন্স : ১১-৩-২৭-২,
নাথান লিঁও : ৩৩-১১-৬০-৬,
স্টিভ ও’কেফি : ২২.২-৬-৪৯-২,
অ্যাস্টন আগার : ৫-১-৯-০,
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস :
ম্যাট রেনশ ক মুশফিকুর ব সাকিব    ২২
ডেভিড ওয়ার্নার ক সৌম্য ব মুস্তাফিজুর    ৮
স্টিভেন স্মিথ ক মুশফিকুর ব তাইজুল     ১৬
পিটার হ্যান্ডসকম্ব অপরাজিত    ১৬
গ্লেন ম্যাকওয়েল অপরাজিত     ২৫
অতিরিক্ত    ০
মোট (৩ উইকেট, ১৫.৩ ওভার)     ৮৭
উইকেট পতন : ১/১৩ (ওয়ার্নার), ২/৪৪ (স্মিথ), ৩/৪৮ (রেনশ)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মুস্তাফিজুর : ৫-১-১৬-১,
সাকিব : ৬-১-৩৫-১,
তাইজুল : ৪-০-২৬-১,
নাসির : ০.৩-০-১০-০।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।
ম্যাচ সেরা : নাথান লিঁও (অস্ট্রেলিয়া)।
সিরিজ সেরা : ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)।