মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » জাতীয় » রাখাইনে বিশেষ অঞ্চল গড়তেই রোহিঙ্গা নিধন – কাজী রিয়াজুল হক

রাখাইনে বিশেষ অঞ্চল গড়তেই রোহিঙ্গা নিধন – কাজী রিয়াজুল হক

Human+Right+Comission-Rezaul+Haque

সিনিউজ: রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়নকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রবিবার তিনি উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে। বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছায় মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে বিশেষ অঞ্চল গড়তে চায়। কিন্তু অতীতে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে গত ২৪ আগস্ট আনান কমিশনের জমাদেয়া প্রতিবেদনটি রোহিঙ্গা তথা মানবতার পক্ষে গেছে। তাই রোহিঙ্গাদের তাড়াতে পরিকল্পিতভাবে শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা নিধন।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্যিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি জাতির ওপর রাষ্ট্রীয় গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের পরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার চিন্তা করছে।
আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে অনেক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যেভাবে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের কথা থেকে অনুমান করে মিয়ানমারের এই নির্যাতনকে গণহত্যার শামিল বলে অভিহিত করছি।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের এই নির্যাতনের কথা জাতিসংঘ, ইইউ, আরবলীগসহ আন্তর্জাতিক মহলে তোলে ধরেছে বাংলাদেশ। তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এতে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়নমারের ওপর চাপ প্রয়োগ হচ্ছে। তারপরও তারা নির্যাতন চালাচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার চিন্তা করছে।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বোঝা উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। তার উপর ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা আমাদের জন্য সমস্যা। জীবন বাঁচানো হচ্ছে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার। বাংলাদেশ সরকার তাই রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিয়েছে।