মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » ফিচার » নতুন প্রাণী ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙ’

নতুন প্রাণী ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙ’

Dhakaya Bang

সিনিউজ: সম্প্রতি ঢাকা শহরেই পাওয়া গেছে নতুন প্রজাতির এক বন্যপ্রাণী! প্রায় দেড়শ বছর পরে ঢাকায় নতুন প্রজাতির এক ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন তরুণ প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার। ঢাকার নামে ব্যাঙটির নামকরণ হয়েছে জাকেরানা ঢাকা।  আর বাংলায় এর নাম ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙ’ রাখার প্রস্তাব করেছেন সাজিদ। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাকের হোসেনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই গণের নাম জাকেরানা রাখা হয়েছে।
নতুন প্রজাতির ব্যাঙের আবিষ্কার বিষয়ে সাজিদ জানান, মেগা সিটিতে প্রতিকূল পরিবেশে নতুন প্রজাতির একটি প্রাণী লুকিয়ে ছিল। গত দেড়শ বছর এই শহরে নতুন কোনো প্রাণী না পাওয়া গেলেও এই আবিষ্কার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিকূল পরিবেশে প্রাণ ধারণের ক্ষমতা, অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা নির্দেশ করে।
তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সব চিন্তাকে আরেকবার ভুল প্রমাণ করে দিল প্রাথমিক ফলাফল। পৃথিবীর অন্যতম এই ঘনবসতিপূর্ণ শহরেই পাওয়া গেল একটা নতুন প্রজাতির ব্যাঙ, যার পরিচয় ছিল পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছেই অজানা! ঢাকার সরু রাস্তার পাশের এই ব্যাঙগুলো আজ পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিচিত হলো নিজ পরিচয়ে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ব্যাঙটি আবিষ্কৃত হলো গণভবন এবং সংসদ ভবন এলাকা থেকেই। রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও বর্ষাকালে এই প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মেলে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সাজিদ বর্তমানে ফেলোশিপ নিয়ে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ফিনল্যান্ড) জীববিজ্ঞান বিভাগে ব্যাঙের শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যার (ট্যাক্সেনমি) ওপর পিএইচডি করছেন। কাজের পরিকল্পনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ক্যান্সারের বায়োডাইভার্সিটি ইনস্টিটিউট, পর্তুগালের লিসনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইতালির ন্যাচারাল মিউজিয়ামসহ পৃথিবীর অনেক দেশের বিজ্ঞানী মহলের সহায়তা পেয়েছেন।
২০০৪ সালে চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন সাজিদ। এরপর থেকে ব্যাঙ, পাখি নিয়ে তার পথচলা। ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙের জীবন প্রণালী ও বংশবৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালান তিনি। এ সময় তিনি ব্যাঙের বংশবৃদ্ধির জন্য হটস্পট হিসেবে পরিচিত চবির কাটাপাহাড় রাস্তার দু’পাশ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙের নমুনা সংগ্রহ করতে থাকেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে একদিন পেয়ে যান বিরল প্রজাতির একটি ব্যাঙ। স্বভাব মতো সেটিকে তিনি ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগারে নিয়ে গিয়ে এটির প্রজাতি ও প্রকৃতি উদ্ধারের কাজে লেগে যান। কিন্তু সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও তালিকাভুক্ত সাড়ে ছয়শ প্রজাতির মধ্যেও এ ব্যাঙের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তিনি। তারপর শুরু হয় অন্য ধরনের গবেষণা।
এ ব্যাঙের ব্যতিক্রমী ডাক ও বৈশিষ্ট্য বের করতে তিনি যোগাযোগ করেন বিশ্বের সেরা সব প্রাণিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগাল, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় ব্যাঙের ডাকের সাউন্ড এনালাইসিস এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, এ ধরনের ব্যাঙের অস্তিত্ব একমাত্র বাংলাদেশেই পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বের সেরা প্রাণিবিজ্ঞানীদের সম্পাদনায় প্রকাশিত বন্যপ্রাণির শ্রেণিবিন্যাসের কাজে নিয়োজিত জার্নাল জুট্যাক্সাতে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ পাঠান। ওই সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ তার আবিষ্কারের সত্যাসত্য যাচাইয়ের পর প্রবন্ধটি গ্রহণ করেন। এরপর গত জুট্যাক্সা’র ২৭৬১ ভলিউমে এটি প্রকাশিত হয়।