মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » ফিচার » বিস্ময় বৃক্ষ কাইজেলিয়া!

বিস্ময় বৃক্ষ কাইজেলিয়া!

Kaizelia

সিনিউজ:  বিলুপ্ত প্রজাতির বিস্ময় বৃক্ষ কাইজেলিয়া। দুর্লভ ও বিরল প্রজাতির এই বৃক্ষ গোটা এশিয়া মহাদেশে আছে মাত্র পাঁচটি। এর মধ্যে বাংলাদেশে দুটি। আর এ দুটি গাছই রয়েছে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে।
এ গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘কাইজেলিয়া আফ্রিকানা।’ প্রায় আট শ’ বিঘা জমির ওপর কারমাইকেল কলেজ চত্বরের প্রবেশ পথ পেরুতেই কলেজ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে একটি গাছের গোড়ায় ‘দাঁড়াও পথিকবর-আমার নাম কাইজেলিয়া’ অঙ্কিত একটি বোর্ড চোখে পড়বে। এ গাছটিই আসলে কাইজেলিয়া। প্রাচীন এমন আরেকটি গাছ রয়েছে খানিকটা অদূরে ক্যাম্পাসের মসজিদের সামনে। গাছটির উৎস কিংবা উৎপত্তি সম্পর্কে কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, প্রবীণ শিক্ষক কিংবা স্থানীয় অনেক প্রবীণদের কাছেও সঠিক কোনো তথ্য নেই।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা জানান, কাইজেলিয়া বৃক্ষের আদি নিবাস আফ্রিকা। সম্ভবত কলেজ প্রতিষ্ঠাকাল ১৯১৬ থেকে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠাতাদের কেউ দুর্লভ প্রজাতির তিনটি গাছ এখানে রোপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি মরে গেলেও এখন রয়েছে দুটি। আবার কারও কারও মতে, সে সময় বড় রকমের কোনো ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মাধ্যমেও কোনো চারা এখানে এসে গজিয়ে ওঠতে পারে। এ গাছের উচ্চতা হয়ে থাকে ২০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত। শীতের শেষে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এ গাছে এক ধরনের ফুল ফোটে যার রং হয় মেরুন অথবা কালচে লাল। ফল দেখতে সুন্দর, লম্বা ও গোলাকৃতির অনেকটা মোটা বেগুনের মতো। একেকটি ফলের ওজন হয়ে থাকে ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত।
আগে সবার কাছে গাছটি ‘অচিন বৃক্ষ’ নামেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নে ৯৪-৯৫ সালে কলেজের তৎকালীন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোস্তফা কামাল পাশা এ গাছ দুটির ওপর বিষদ গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেন এর আদ্যোপান্ত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি দলও এর ওপর গবেষণা চালান। যেহেতু এ গাছের প্রজনন কিংবা বংশ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নাই, তাই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এ গাছ থেকে তারা ১১টি চারা উৎপন্ন করেন এবং কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সামনে রোপণ করেন উৎপন্নকৃত দুটি শিশু চারা। আর বাকি ৯টি চারা রোপণ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। মজার বিষয় হলো অপর ওই ৯টি চারা মরে গেলেও এখানকার দুটি বেড়ে ওঠছে অনেকটাই। অর্থাৎ এখন এখানে প্রবীণ এবং নবীন মিলে চারটি কাইজেলিয়া রয়েছে।
দেশ-বিদেশের অনেকেই জানেন না মহামূল্যবান এ গাছের বিশেষ গুণাগুণ। গবেষকদের মতে, এ গাছের ফল ভয়ানক বিষাক্ত হলেও তা প্রক্রিয়াজাত করে আলসার, সর্প দংশনের প্রতিষেধক, বাত, ছত্রাক, চর্মরোগ, মহিলাদের প্রসাধনসামগ্রী এমন কি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়।