মঙ্গলবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Home » অর্থনীতি » মাদারীপুরে কোয়েল পালনে সাফল্য অর্জন

মাদারীপুরে কোয়েল পালনে সাফল্য অর্জন

madaripur-13-09-17-1

সিনিউজ:  মাদারীপুরে বাণিজ্যিকভাবে খামারে কোয়েল পাখি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন  মাদারীপুরের সজল নামে এক যুবক। কোয়েল পাখির ডিম ও পাখি বিক্রি করে বেকারত্ব দূর করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কোয়েলের পাশাপাশি পালন করছেন সোনালি জাতের মুরগি। সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের শ্রীনাথদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে শ্রাবণ হাসান সজল। সজলের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন কোয়েল পাখির একটি খামার। বাড়ির পাশে নিজেদের প্রায় দুই শতাংশ জমিতে প্রশস্ত একটি ঘর তৈরি করে তার চারপাশে নেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কোয়েল পাখির খামার। সজল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (প্রাণী চিকিৎসা) ৩য় বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শুরুতে নিজের হাত খরচ ম্যানেজ করার জন্য কিছু একটা কাজ খুঁজছিল, যাতে আর্থিক সংস্থান করা যায়। হঠাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোয়েল পাখি পালন সম্পর্কে জানতে পারে সে এবং তখন বিক্রয় ডটকম থেকে একজন কোয়েল পাখির খামারির নাম্বার সংগ্রহ করে তাহার কাছ থেকে ২০০ পিস ১ মাস বয়সী পাখি কিনে নিয়ে এসে শুরু করেন কোয়েল পাখির খামার। পাখিগুলো যখন ১ মাস পর থেকে ডিম দিতে শুরু করল, তখন থেকেই ভাবতে লাগল সজল এটা আসলেই একটি লাভজনক হবে। অবশ্য সে সময়ে তার পিতা সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের কাছ থেকে অনেক আর্থিক সাপোর্ট এবং মা জামিলা বেগমের সহযোগিতায় যশোর থেকে আরো এক হাজার পিস ১ মাস বয়সী কোয়েল পাখি কিনে খামারের পরিধি বৃদ্ধি করে। ১টি স্ত্রী কোয়েল ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করে। এরা ১৮ মাস পর্যন্ত ডিম দেয়।
সজল  জানান, বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কোয়েল পাখি রয়েছে। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছে গড়ে ৮শ’। খামারে প্রতিদিন তিনি ডিম বিক্রি করে ১ হাজার ৬শ’ টাকা আয় করেন। প্রতি মাসে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করে সজল। বেকার সজল কোয়েল পাখির খামার দিয়ে বেকারত্বকে পরাজিত করে অল্প বয়সেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সজল তার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে তার বেকারত্বকে বলি দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। সজলের এই সাফল্যকে আমি উৎসাহ প্রদান করি। প্রয়োজনে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোনো সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই তাকে তা দেয়া হবে। কোয়েল পাখি পালনে বেশ সুবিধা রয়েছে। কোয়েল দ্রুত বর্ধনশীল, মাত্র ৬-৭ সপ্তাহে ডিম পাড়া শুরু করে। ডিমে কোলেস্টেরল কম, প্রোটিনের ভাগ বেশি। মাত্র ১৭/১৮ দিনে কোয়েলের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। হাঁস-মুরগির চেয়ে কোয়েলের রোগবালাই নেই বললেই চলে।’