সোমবার , ২০ নভেম্বর ২০১৭
Home » জাতীয় » নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে চালের দাম বাড়ছে প্রতিদিন

নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে চালের দাম বাড়ছে প্রতিদিন

Rice-

সিনিউজ:  নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। মাস তিনেক আগেও প্রকারভেদে চালের দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। বাড়তে বাড়তে এখন ৪৮ থেকে ৬৩ টাকায় গিয়ে উঠেছে। চালের বাজারের এ অস্থিরতা কেন তার কোন সদুত্তর নেই কারো কাছে। চাল আমদানিতে সরকারের রাজস্ব প্রত্যাহারের উদ্দেশ্য কোনো কাজেই আসছে না। সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ভারত থেকে আমদানিকৃত মোটা দানা স্বর্ণা ও মোটা দানা রত্না  চালের কেজি প্রতি খরচ ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। এ দামে আমদানি করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি করে আসছিল ৩৮ টাকা থেকে ৩৯ টাকা দরে। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত বাজারে দেখা গেছে, দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। কিন্তু আমদানি খরচ রয়েছে আগের মতোই। অধিক মুনাফা লাভের আশায় আমদানিককারক প্রতিষ্ঠানগুলো গুদামে চাল মজুদ রেখে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলে ব্যাপকভাবে সমালোচনা চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে এক শ্রেণীর মিল মালিক আমদানিকৃত চাল তাদের নিজেদের বস্তায় ভরে তা বাজারজাত করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বৃহত্তম বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন, উত্তরা ট্রেডার্স (প্রাঃ) লিঃ ও মেসার্স মাহাবুব অ্যান্ড ব্রাদার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরকারের দেয়া রাজস্ব মওকুফের আওতায় চাল আমদানি করছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সাংবাদিকদের কাছে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগে যে মোটা চাল ৩৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বর্তমানে তা ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪৮ টাকার বিআর-২৮ চাল ৫০-৫২ টাকায়, ৫০/৫১ টাকার মিনিকেট ৫৩/৫৪ টাকায়, ৫৮/৫৯ টাকার বাসমতি ৬২/৬৩ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, মিল মালিকেরা বাজার থেকে প্রতি মণ ধান কিনছেন সাড়ে ৮শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা দরে। মাড়াই করলে প্রতি মণ ধানে ২৫ কেজি চাল পাওয়া যায়। মাড়াই শেষে খরচ দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি প্রতি। এদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত চালও পাওয়া যাচ্ছে উপরোক্ত দামে। যে কারণে নিজেদের মজুদকৃত ধান মাড়াই না করে অধিক লাভের আশায় আমদানিকারকরা চাল ক্রয় করে বিক্রি করে আসছেন। কিন্তু বর্তমান ওই আমদানিকৃত চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা। প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৩ টাকা লাভ হলেও আরও লাভের আশায় মিল মালিকেরা গুদামের ধান মাড়াই না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার আমদানি শুল্ক হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে আনে। এ কারণে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে শুরু করে। তারা মনে করেছিল, চালের ‘গরমভাব’ কেটে যাবে। কিন্তু শেষ অবধি তা হয়নি। বরং এক মাসের ব্যবধানে ফের আগুন লেগেছে চালের বাজারে। যশোর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে মাঠে নামবেন।