বুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
Home » অর্থনীতি » ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামার করে সচ্ছল রোকেয়া

ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামার করে সচ্ছল রোকেয়া

Ishurdi-17.10.2017

Ishurdi-17.10.2017

সিনিউজ: ঈশ্বরদীতে সম্প্রতি পোল্ট্রি ব্যবসা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ব্যবসা করে এখানকার অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। ব্যবসায় সফলতা অর্জন ও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখায় ইতোমধ্যে একাধিক পোল্ট্রি খামার ব্যবসায়ী জাতীয় পদকও অর্জন করেছেন। সফল পোল্ট্রি খামার ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রসার দেখে অনেকেই পোল্ট্রি খামার ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছেন। অন্তত ১২-১৫ জন শিক্ষিত ও বেকার যুবক ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন।
অনেকের মধ্যে ঈশ্বরদী শহরের অরনকোলার রোকেয়া পোল্ট্রি খামারের স্বত্বাধিকারী রোকেয়া আক্তার একজন সফল পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। তিনি ২০০৩ সালে বাড়ির আঙ্গিনায় লেয়ার জাতের এক হাজার মুরগি পালনের মাধ্যমে এ ব্যবসা শুরু করেন। বিয়ের আগে একটি বাণিজ্যিক লেয়ার ফার্মে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কর্মরত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ব্যবসা শুরুর পর থেকে তিনি পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে আজ আর্থিকভাবে সচ্ছল খামারি ব্যবসায় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। পরিশ্রম, সংগ্রাম ও সাহসিকতার মধ্য দিয়ে পোল্ট্রি খামার ব্যবসায় একজন নারী উদ্যোক্তা ও সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি লাভ করা খুব সহজসাধ্য বিষয় না হলেও তিনি পরিশ্রমের মাধ্যমে জয় করেছেন। রোকেয়া পোল্ট্রি খামার ব্যবসা ক্ষেত্রে মডেল হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন। এজন্য মাঝেমধ্যেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উৎসাহীরা তার খামার পরিদর্শনে আসেন। নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমানে রোকেয়া পোল্ট্রি ও কৃষি খামারের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ বিঘায় উন্নীত হয়েছে। এ পোল্ট্রি খামারে ৬ হাজার মুরগি রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ৪ হাজার মুরগি ডিম দেয়। বাকিগুলো ছোট বাচ্চা। প্রতিদিন তিনি খামার থেকে ৩ হাজার ৮শ’ ডিম বিক্রি করে থাকেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য রোকেয়া ইতোমধ্যে জাপানি একটি সংস্থায় কৃষির ওপর ১৮ মাসের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।
রোকেয়া জানান, বিয়ের পর সংসারের অভাব দূর করতে খামার ব্যবসা শুরু করে বর্তমানে তিনি সফল পোল্ট্রি খামারি। কৃষিক্ষেত্রে রোকেয়া তার খামারকে প্রসারিত করতে কঠোর পরিশ্রমী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি রোকেয়া পোল্ট্রি খামার পরিদর্শন করেন পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল গফুর। খামার পরিদর্শন করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত উৎসুকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোকেয়া একজন কঠোর পরিশ্রমী ও নারী উদ্যোক্তা। রোকেয়ার পরামর্শ ও সহযোগিতায় অরনকোলা এলাকার অনেক বেকার যুবক-যুবতী পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে আর্থিক লাভবান হয়েছেন। এ খামারি দেশের মুরগি, ডিম ও মাছের চাহিদা পূরণ করছেন। সেই সঙ্গে পুষ্টিরও জোগান দিচ্ছেন।
রোকেয়া পোল্ট্রি খামারের পাশাপাশি মৎস্য চাষ, ধান, হলুদ, পেয়ারা, লিচু, ঢেঁড়স, লাউ, শিমসহ সব প্রকার সবজি ও ফলের আবাদ শুরু করেছেন। কঠোর পরিশ্রম করে বেকারত্বকে পিছে ঠেলে দিয়ে রোকেয়া একজন মডেল পোল্ট্রি খামারি হিসেবে ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে পরিচিতি লাভ করেছেন।