সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
Home » জেলা সংবাদ » গোপালগঞ্জে শতবর্ষী কার্তিক পূজার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে শতবর্ষী কার্তিক পূজার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

Nouka baich

Nouka baich

সি নিউজ : গোপালগঞ্জে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কার্তিক পূজার নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ নভেম্বর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সানপুকুরিয়ার মধুমতি নদীতে সানপুকুরিয়া গ্রামবাসী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কার্তিক পূজা উপলক্ষে শত বছর ধরে ওই নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
নান্দনিক নৌকাবাইচ বিপুল আড়ম্বরে শুরু হয়। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত আকর্ষণীয় এ নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অর্ধশত সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা বাচাড়ি নৌকা অংশ নেয়।
আবহমান গ্রামবাংলার অতিপ্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে লাখো প্রাণের আনন্দ উচ্ছলতায় জেলার মধুমতি নদীতে সানপুকুরিয়া উত্তর পাড়া থেকে দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নৌকাবাইচ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকায় ও ট্রলারে করে নৌকাবাইচ দেখতে মহিলাদের উপস্থতিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজে এ নৌকাবাইচ সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ প্রত্যক্ষ করেন ।
এদিন দুপুর থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টিনন্দন এসব নৌকা তুমুল বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে একের পর এক কুচ। ঠিকারি, কাশির বাদ্যে ও তালে জারি-সারি গান গেয়ে এবং নেচে- হেঁইও হেঁইও রবে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। দূই কূলে দাঁড়িয়ে থাকা লাখ লাখ মানুষের হৃদয়ে জাগে দোলা। মাল্লাদের সঙ্গে সমবেত হন অগণিত সমর্থক ও দর্শক। তারা উৎসাহ দেন বাইচে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। এছাড়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে মধুমতি নদীতে কার্তিক পূজার শতবর্ষী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেগম নিরুন্নাহার ইউসুফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সানপুকুরিয়া নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির সদস্য কমলাখী বিশ্বাস, সজল বৈদ্য, স্নেহাংশু ঠাকুর বলেন, কার্তিক পূজা উপলক্ষে শত বছর ধরে এখানে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এ কৃষ্টিকে ধারে রাখতেই আমরা প্রতি বছর এ আয়োজন করে আসিছি।