সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
Home » ফিচার » প্রকৃতির অপরূপ উপহার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত

প্রকৃতির অপরূপ উপহার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত

kuakata

kuakata

সি নিউজ : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কুয়াকাটার মূল ব্যাপারই হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য। নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরূপ। প্রকৃতির উপহার দীর্ঘ সাগর সৈকত সত্যিই বিস্ময়কর। বিশ্বের আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে কুয়াকাটা অন্যতম। কুয়াকাটার এই মনোরম সাগর সৈকতে গেলেই সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মতো বিরল, বর্ণিল দৃশ্য সহজেই অবলোকন করা যায় তাও একই স্থানে দাঁড়িয়ে।
সাগর কন্যা কুয়াকাটা  পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যাপার।
কুয়াকাটা বেড়ি বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই বাম দিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে রয়েছে বিশাল নারিকেল, বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান। এ বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট। এর পরেই রয়েছে কাক্সিক্ষত ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল সমুদ্র সৈকত। সৈকত ধরে পূর্ব দিকে এগুলেই প্রথমে দেখা যাবে নারিকেল বাগান, সুন্দর আকৃতির ঝাউ বন। বন বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ লাগিয়ে সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। এ নারিকেল ও ঝাউবাগানের মধ্যেও রয়েছে পিকনিক স্পট। এরপর একটু পূর্ব দিকে এগুলেই চর-গঙ্গামতির লেক, সেখান থেকে একটু ভিতরে দিকে এগুলেই  সৎসঙ্গের শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম ও মিশ্রীপাড়া বিশাল বৌদ্ধ বিহার। সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুপাড়ায় প্রতি বছর আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত জেলেরা গড়ে তুলে শুঁটকি পল্লী। এ শুঁটকি পল্লীতে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুঁটকিতে রূপান্তরিত করে সারা দেশে সরবরাহ করে।
সূর্যোদয় দেখার জন্য ঝাউবনে যাওয়াই ভালো। সেখান থেকেই সূর্যাস্ত ভালো দেখা যায়, সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য ওঠার মোহনীয় দৃশ্য সত্যিই অতুলনীয়। সকাল বেলা হেঁটে হেঁটে ঝাউবনে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আর ভ্যানে  গেলে লাগবে ১০ মিনিট। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরি করেছে। কারো কারো কাছে সূর্যোদয়ের চেয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা বোধহয় বেশি চমৎকার লাগে। সূর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় রংয়ের পরিবর্তনটা আপনি স্পষ্টই দেখতে পাবেন।
সমুদ্রের গর্জন দিনের বেলা সাধারণত আশপাশের শব্দের কারণে শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ঙ্কর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে। যদি রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান তবে অবশ্যই যেতে পারেন সেখানে। নিরাপত্তা জনিত কোনো ভয় নেই সেখানে। তবে সাবধানে থাকাই ভালো। সত্যি কথা বললে রাতের সমুদ্রের গর্জন সত্যিই ভয়ঙ্কর। সৈকতের কাছাকাছি কোনো হোটেলে থাকলে গর্জন হোটেল থেকেও শোনা যেতে পারে।
দর্শণার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই সৈকতে আছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও ঘোড়া। ভাড়া সাধারণত দূরত্ব ও সময় অনুযায়ী হয়। কুয়াকাটার আশপাশে বেশ কয়েকটি চর আছে। সেগুলো দেখতে আপনি যেতে পারেন স্পিডবোট, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় করে। কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতের আশপাশে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। সেগুলোতে রান্না করার সব ব্যবস্থা আছে। চুলা, খড়ি, হাঁড়ি, পাতিল থেকে বাবুর্চি পর্যন্ত।
সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের ভ্রমণের  জন্য রয়েছে-  সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজ ও ট্রলার এবং স্পিড বোট। এসব জাহাজ ও ট্রলারে ওঠে পর্যটকরা সুন্দরবনের অংশ বিশেষ ফাতরার চর, সোনার চর, কটকা, হাঁসার চর, গঙ্গামতির লেক ও সুন্দরবনসহ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করতে পারেন। সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।
কুয়াকাটায় দেখার আরেক আকর্ষণ শুঁটকিপল্লী। কুয়াটায় শুঁটকি পল্লী থাকায় এখানে অনেক কম দামে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি পাবেন। ইলিশ, রূপচাঁদা, হাঙর, লইট্যা, শাপলাপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিদেশে রফতানি করা হয়। বিশাল এলাকায় চ্যাঙ বানিয়ে শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি দেখা আরেক মজার অভিজ্ঞতা।