বুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
Home » বিশেষ আয়োজন » বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের তৃতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের তৃতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী

Pm

Pm

সি নিউজ : বিশ্বের সবচেয়ে সৎ পাঁচজন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গবেষণায় জানা  গেছে এক নম্বরে রয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, দ্বিতীয় স্থানে আছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং, তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চতুর্থে আছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলাবার্গ এবং তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস এ্যান্ড পলিটিক্স’ এই প্রেক্ষাপটে সৎ নেতার সন্ধান করেছে। ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেতৃত্বের সততার মান বিচার হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, সরকার/রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তাঁর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করেছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ কতটুকু বেড়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, গোপন সম্পদ গড়েছেন কিনা। চতুর্থ প্রশ্ন সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা। আর পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, দেশের জনগণ তাঁর সম্পর্কে কী ভাবেন?
এই ৫টি উত্তর নিয়ে পিপলস এ্যান্ড পলিটিক্স ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এরকম মাত্র ১৭ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা শতকরা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকার প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। ৫টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং, ৮৮ পেয়ে সৎ সরকার প্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকার প্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলাবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
পিপলস এ্যান্ড পলিটিক্সের গবেষণায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নেই। সংস্থাটি গবেষণায় দেখেছে, বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। শেখ হাসিনার কোনো গোপন সম্পদ নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিপলস এ্যান্ড পলিটিক্স। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করেন সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসার ঊর্ধ্বে।
রাজনৈতিক ব্যক্তি যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পৃথিবীর শক্তিশালী গণমাধ্যম যখন প্রকাশ করছে এবং প্যারাডাইস পেপারস আর পানামা পেপারস নিয়ে যে মুহূর্তে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। সেই মুহূর্তে ব্যতিক্রম কয়েকজন সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান নিয়ে পিপলস এ্যান্ড পলিটিকস নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তাদের গবেষণায় ওঠে এসেছে বিশ্বের ৫ সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানের কথা। যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো তাদের কোনো সম্পদও নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। যার কেবল সম্মানী ভাতা এবং পৈত্রিক সম্পদ ছাড়া কোনো মূল্যবান সম্পদের মালিক নন। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদত বরণের পর ৪২ বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ছাড়া অধিকাংশ প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি দলের চেয়ারপার্সন এর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের ৯ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালনকারি এবং একটি দলের প্রধান দুর্নীর দায়ে সাজাভোগ করেছেন। সেই দেশেরই প্রধানমন্ত্রী যিনি দীর্ঘ সময় একই পদে আসীন আছেন তার ব্যাপারে যখন বিশে^র গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৎ ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ পেয়েছে। এর চেয়ে গৌরব এবং সম্মান বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বড় পাওয়া বলে জানিয়েছেন বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালি এবং দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।