বুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
Home » ফিচার » বাংলাদেশের তাজমহল

বাংলাদেশের তাজমহল

Tajmohol

Tajmohol

সি নিউজ : ঐতিহাসিক স্থাপত্যের প্রতিরূপ তৈরি করার প্রবণতা শুরু হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে চীনারা। তাদের তৈরি বিখ্যাত স্থাপত্যের প্রতিরূপ দেখতে হাজার হাজার পর্যটক চীনে আসে। বাংলাদেশেও বিখ্যাত তাজমহলের একটি প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে।
তাজমহল মুঘল স্থাপত্যের সর্বোচ্চ এবং অনন্যসাধারণ নিদর্শন  যা ১৭ শতকে নির্মাণ করা হয়। ২০ বছর লাগে এর নির্মাণ কাজ শেষ হতে। মোগল সম্রাট শাহজাহান এই বিস্ময়কর স্থাপত্য তৈরি করেন। এটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মমতাজের সমাধিস্থল যিনি সন্তান প্রসবের সময় মারা যান।
ভারতে তাজমহল দেখতে বছরে প্রায় ৮ মিলিয়ন পর্যটক আসে।
সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হল আগ্রার তাজমহল। বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসানউল্লাহ মনি দ্বারা শুরু হয়েছিল এর প্রতিরূপ তৈরি।
এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি আশা করেছিলেন যে, এটি কেবলমাত্র দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে না বরং বিদেশী পর্যটকদেরও টানবে। ঢাকার  কয়েক মাইল দূরে সোনারগাঁয়ে এটি অবস্থিত। তাজমহলটি প্রায় চার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ইতালি থেকে মার্বেল, ব্রোঞ্জ, গ্রানাইট আমদানি করে এই ঐতিহাসিক আশ্চর্যের প্রতিরূপ নির্মাণ করা হয়। স্থাপনাটি নির্মাণে সময় লাগে পাঁচ বছর। এই তাজমহলকে ঘিরে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। তাজমহল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ১৭২ টি কৃত্রিম ডায়মন্ড। নির্মাণ কাজের জন্য ৬ জন টেকনিশিয়ানকে নিয়োগ দেয়া হয়। ভারতের তাজমহলকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্মাতাকে সে দেশে যেতে হয়েছে অনেকবার।
২০০৮ সালে এই তাজমহল উদ্বোধন করা হয়। তাজমহলের প্রবেশ পথে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ১০ টি ঝর্ণা।
আহসানউল্লাহ মনি তাজমহলের প্রেমে পড়েন ১৯৮০ সালে আগ্রা সফরকালে এবং তিনি বহুবার এই স্থান  পরিদর্শন করেন। তবে বাংলাদেশে তাজমহলের কপি তৈরি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা খুশি ছিলেন না। কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য আহসানউল্লাহ মনির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও হুমকি দিয়েছিল।