বুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
Home » ফিচার » রসিক পাখি কানাকোকা

রসিক পাখি কানাকোকা

Kanakoka

Kanakoka

সি নিউজ : দেখতে অনেকটা কাকের মতো হলেও আকারে বড়। জঙ্গল, বাঁশ কিংবা বেত ঝাড়ের পাশে দেখা মেলে। বড় বাদামি চোখের এই পাখিটির নাম কানাকোকা।
কানাকোকার চোখের মণি ও ডানা দুটি বাদামি। শরীরের বাকি অংশ কুচকুচে কালো।
বাড়ির আঙিনায়, ঝোপ, ঝাড় ও বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সাপ, বেজি ও গুঁইসাপ দেখলে লেজে ঠোকর দিয়ে পালিয়ে যায়। পিছু নেয়। কিছুদূর গিয়ে আবার ঠোকর দেয়। এভাবে প্রাণীগুলোকে বিরক্ত করে মজা পায়। এই স্বভাবের কারণে কানাকোকাকে রসিক পাখি নামে ডাকে অনেকে। তবে অন্য পাখির বাসায় হানা দিয়ে বাচ্চা ও ডিম খাওয়ার অভ্যাস থাকায় কেউ কেউ কানাকোকাকে ‘ডাকাত’ পাখি নামেও ডাকে। সাপ-ব্যাঙ ও কীটপতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে গেলে তা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বলে তাকে ‘পরিবেশবান্ধব পাখি’ হিসেবে দেখা হয়। মানুষ যেমন দোষে-গুণে। কানাকোকাও তাই।
এর ইংরেজি নাম ক্রো ফিস্যান্ট, বৈজ্ঞানিক নাম সেন্ট্রোপাস সিনেনসিস।
পৃথিবীর ২৬ প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে দুই প্রজাতির কানাকোকা পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির কানাকোকা দেশের সব অঞ্চলে দেখা যায়। ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানা এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এখনো বেশ দেখা যায়। ছোটটি শুধু পাহাড়ি এলাকায় থাকে। বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় এবং মানুষের শিকারের কারণে এদের সংখ্যা কমছে। পাখি বিশারদ শরীফ খান লিখেছেন, আত্মগোপন করে থাকা এদের স্বভাব। অন্য পাখি ও প্রাণীর বাচ্চাদের ওপর হামলা করলেও নিজের বংশধরের ব্যাপারে খুব সচেতন এরা। তাই নারিকেলসহ উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বাচ্চাদের সেখানেই নিরাপদে রাখে।
লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। স্বভাবের ক্ষিপ্রতা যেন অবয়বে ধরা পড়ে। শিকার খোঁজার ভঙ্গিতে চলাফেরা, তাই অন্য পাখির ভিড় থাকে না আশপাশে।
পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে এর তুলনা নেই। ঝোপঝাড়ে গিয়ে নানা ধরনের পোকা, ব্যাঙ, ছোট সাপসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গ ধরে খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখে এরা। এদের কারণে প্রাণচক্র ঠিক থাকে।
কানাকোকা কাক গোত্রের তুখোড় শিকারি পাখি। নিজে আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। অন্য পাখিরাও এর কাছ থেকে নিজেদের কাচ্চা-বাচ্চা ও ডিম লুকিয়ে রাখে। কানাকোকার চোখের মণি ও ডানা দুটি বাদামি। শরীরের বাকি অংশ কুচকুচে কালো। কানাকোকা পাখি ডাকে কুপ-কুপ-কুপ। আবার কখনো কুরুক-কুরুক-কুরুক। ডাকে থাকে অপূর্ব আহ্বান। বন-বাগান, বাঁশঝাড়, নদী-পাড়ের হিজল বনে নির্জন স্থানে কানাকোকার ডাকে পূর্ণতা ফিরে পায় প্রকৃতি। লাফিয়ে লাফিয়ে উড়ে মানুষকে চমকে দেয় রসিক কানাকোকা। এলাকাভেদে অনেক নাম রয়েছে কানাকোকার। যেমন বাংলা কুবো, কানকুয়া, কুক্কা, ছোট কোকা, কুক্কাল, কানাকোকা ইত্যাদি। এদের দৈর্ঘ্য ৩৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১২০ গ্রাম। প্রজনন মৌসুমে পিঠ তামাটে এবং দেহতল কালো হয়ে যায়। মার্চ থেকে অক্টোবর এদের প্রজননকাল। ছেলে এবং মেয়ে পাখির মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না।
কাঠবিড়ালির বাচ্চা এদের খুব প্রিয় খাবার। তবে ছোট সাপ, ব্যাঙ, গিরগিটি, অন্য ছোট পাখির ডিম, বাচ্চাও খায় এরা। কেঁচো ধরে এনে বাচ্চার সামনে দেয়। নিজের বাচ্চাদের খাবার ধরার প্রশিক্ষণও দেয় এরা।
এই পাখি প্রায় সারাদিন বিশেষ করে প্রহরে ‘পুত পুত পুত’ বা ‘কুপ কুপ কুপ’ রবে দারুণ জোরে ডাকে; রাতে অপরাপর পাখির সাথে পালা করে ডাকে। জোয়ার-ভাটার সময় এদের ডাক সংকেতের মতো কাজে লাগে। কানাকোকার ডাক শুনে তারা প্রকৃতির নানা পরিবর্তন বুঝতে পারে।