বুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
Home » দেশজুড়ে » টাঙ্গুয়ার হাওরে আসছে না অতিথি পাখি, কমছে পর্যটক

টাঙ্গুয়ার হাওরে আসছে না অতিথি পাখি, কমছে পর্যটক

Pakhi

Pakhi

সি নিউজ : টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতি বছর শীত মৌসুমে সুদূর সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি এলেও এ বছর অতিথি পাখি এখনো না আসায় পর্যটকরা হতাশ। এ সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে লেনজাহাঁস, পিয়ংহাঁস, বালিহাঁস, সরালি কাইম, গঙ্গা কবুতর, কালাকুড়া, পিয়ারিসহ বিভিন্ন রঙের অতিথি পাখি এলেও অন্য বছরের তুলনায় খুবই কম। ইতোমধ্যে যা এসেছে তা আবার শিকার করে চুরি করে বিক্রির পাঁয়তারা করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও এলাকাবাসী মনে করছেন, পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখির আবাসস্থল তৈরি করতে কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নিতে না পারায় বিশাল এ হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইরানের এক সম্মেলনে এ হাওরকে রামসার এলাকাভুক্ত করা হয়। ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু গত ১৮ বছরেও টাঙ্গুয়ার হাওরে কোনো উন্নয়ন হয়নি বরং দিন যত যাচ্ছে ততই হাওরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন দায়িত্ব পাওয়ার পর পাখিবিজ্ঞানী ও আইইউসিএনের তথ্যমতে, টাঙ্গুয়ার হাওরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি ছিল। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগল পাখিও আছে এ হাওরে। কালেম, পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ংহাঁস, খয়রাবগা, লেনজাহাঁস, নেউপিপি, সরালি, রাজসরালি, চখাচখি, পাতি মাছরাঙা, পাকড়া মাছরাঙা, মরিচা ভূতিহাঁস, সাধারণ ভূতিহাঁস, শোভেলার, লালশির, নীলশির, পাতিহাঁস, ডাহুক, বেগুনি কালেম, গাঙচিল, শঙ্খচিল, বালিহাঁস, ডুবুরি, বক, সারসসহ তখনকার হিসাবমতে প্রায় ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি থাকার কথা। কিন্তু ২০১১ সালের আইইউসিএনের অপর এক জরিপে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব দেখানো হয়েছে। এতে ৮৬ জাতের দেশি এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখির কথা উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা মনিরুজ্জামান ও শাহিন নামে দুই পর্যটক জানান, গত কয়েক বছর আগে টাঙ্গয়ার হাওরে যে পরিমাণ অথিথি পাখি দেখা গেছে, বর্তমানে তা দেখা যাচ্ছে না। টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের এ্যাক্রকিউটিভ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার জানান, এ বছর অতিথি পাখি একটু কম মনে হচ্ছে। তবে শীত যত ঘনিয়ে আসবে ততই অথিতি পাখি হাওরে বাড়বে। তিনি বলেন, অসাধু চক্র যাতে হাওরে পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ, আনসার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।